বিতর্ক ও ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদ সত্ত্বেও মাস্কের প্রতি আস্থা অটুট বিনিয়োগকারীদের

সামগ্রিকভাবে খারাপ সময় পার করছেন ইলোন মাস্ক। বছরটা শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শক হিসেবে।

সামগ্রিকভাবে খারাপ সময় পার করছেন ইলোন মাস্ক। বছরটা শুরু করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরামর্শক হিসেবে। এক পর্যায়ে সরকারি চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন, ট্রাম্পের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিবাদে। একই সময় তার কোম্পানিগুলোর মুনাফা ক্রমেই কমে আসছে। এ অবস্থায় ইলোন মাস্কের ব্যবসাগুলো হঠাৎ ফেডারেল তদন্তকারীদের নজরে পড়ে। এসব ধাক্কার মাঝেও তার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। খবর এপি।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ইলোন মাস্ক চলতি বছর আরো ধনী হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সামনে তার সম্পদ বৃদ্ধিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবেন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি কোম্পানি টেসলার শেয়ারহোল্ডাররা। যদি তারা ইলোন মাস্কের ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের বেতন প্যাকেজ অনুমোদন করেন, তবে তা সম্ভব হবে।

সিএফআরএ রিসার্চের গ্যারেট নেলসনের মতে, ‘ইলোন মাস্কের মেধার জাদু হলো তিনি বিনিয়োগকারীদের পাঁচ বা দশ বছর পরের স্বপ্ন দেখান আর বর্তমান সমস্যাগুলো ভুলিয়ে দেন।’

সম্প্রতি ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বেতন-ভাতার প্যাকেজ অনুমোদন করতে টেসলার শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কোম্পানির বোর্ড চেয়ারম্যান রবাইন ডেনহোম। তিনি সতর্ক করে জানান, এ প্যাকেজ অনুমোদন না হলে মাস্ক টেসলা ছেড়ে চলে যেতে পারেন।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সির (ডিওজিই) প্রধান হিসেবে খণ্ডকালীন দায়িত্ব নেন ইলোন মাস্ক। এ সময় সরকারি ব্যয় ২ ট্রিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ডিওজিইর দাবি, ২৪০ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় সাশ্রয় করতে পেরেছে তারা। মূলত ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো এলেইন কামার্ক বলেন, ‘তাদের কাজের প্যাটার্ন হলো কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই ছাঁটাই করা। একই কৌশল মাস্ক প্রয়োগ করেছিলেন টুইটার দখলের পরও। কিন্তু সেটার প্রতিক্রিয়াও চলতি বছর সামনে এসেছে। গত দুই মাসে তিনি টুইটারের প্রায় দুই হাজার সাবেক কর্মী ও কর্মকর্তার সঙ্গে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।’

অবশ্য আরো খারাপ খবর অপেক্ষা করছিল। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) টেসলার মুনাফা কমেছে ৩৭ শতাংশ। বলা হয়ে থাকে, মাস্কের ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ক্রেতারা টেসলা বয়কট করছে। ফলে বছরজুড়ে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমার আশঙ্কা রয়েছে।

এত নেতিবাচক খবরের পরও টেসলার শেয়ারদরে উল্টো প্রবণতা দেখা গেছে। মে মাসে ডিওজিই প্রধানের পদ ছাড়ার পর টেসলার শেয়ারদর দ্বিগুণ বেড়েছে। সপ্তাহ খানেক আগের তথ্য অনুসারে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯ শতাংশ লাভে রয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেবে, ইলোন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ ৬২ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৪৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

ইলোন মাস্ক বলছেন, ‘গাড়ি বিক্রি কমলেও সমস্যা নেই। কারণ কোম্পানির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে নতুন রোবোট্যাক্সি পরিষেবা, এনার্জি স্টোরেজ ব্যবসা, গৃহস্থালি ও কারখানায় ব্যবহৃত রোবট প্রকল্পের ওপর।’

এদিকে মার্কিন ফেডারেল কর্তৃপক্ষ টেসলাকে ঘিরে চারটি তদন্ত শুরু করেছে। এর একটি হলো টেসলা কেন চালকবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনার রিপোর্ট সময়মতো জমা দিচ্ছে না। এছাড়া চালকবিহীন প্রকল্পে টেসলার নিয়মভঙ্গের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

ইলোন মাস্ক আগেও বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়মতো তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের মুনাফা এনে দিয়েছেন। ২০১৮ সালে টেসলার মডেল থ্রি উৎপাদন সংকটে পড়লে অনেকেই কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, কিন্তু পরের বছর বিক্রি বেড়ে শেয়ারের দাম আকাশছোঁয়া হয়।

টেসলায় বিনিয়োগ করে মুনাফা করেছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী। চলতি বছর তিনি আবার কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছেন। ওই বিনিয়োগকারী বলেন, ‘মাস্ক প্রায়ই ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকেন, তারপর ঠিক সময়মতো ফিরে আসেন।’

এসঅ্যান্ডপি ৫০০ কোম্পানিগুলোর শেয়ার বর্তমানে আগামী বছরের প্রত্যাশিত আয়ের তুলনায় ২৪ গুণ দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু টেসলার ক্ষেত্রে তা উঠেছে ২৫০ গুণ বেশি, যা ইলোন মাস্কের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

আরও